বৃহস্পতিবার । ২৮শে মে, ২০২৬ । ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ

ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো গোপালগঞ্জে। সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ৫ জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন— শয়ন ঢালী (২০): বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের সমেশ ঢালীর ছেলে (মোটরসাইকেল আরোহী), সইব শেখ একই উপজেলার গোলা গ্রামের মাহাবুব শেখের ছেলে (মোটরসাইকেল আরোহী), মোসাম্মৎ খাদিজা খাতুন (৩২) একই উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে এবং মো. সোহাগ (৩৬) একই গ্রামের আবু হানিফের ছেলে। বাকি একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী ‘দোলা পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায় এবং মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের দুই আরোহীসহ ৪ জন মারা যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ বছরের এক শিশু মারা যায়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার পর পরই গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান এবং পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, ঘটনাস্থলে চারজন এবং হাসপাতালে এক শিশু মারা গেছে। নিহতদের মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, আমরা নিহত ও আহতদের খোঁজখবর নিচ্ছি। নিহতদের পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির কারণে প্রতিনিয়ত এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে বাস মালিক ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে জরুরি আলোচনা করা হবে, যাতে দক্ষ চালক ও ফিটনেস নিশ্চিত করে গাড়ি চালানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটরসাইকেল ও বাস—উভয়েরই গতি অত্যন্ত বেশি ছিল এবং গাড়ির ফিটনেস না থাকার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন